-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও বিজয় পরবর্তী এই ‘সৌজন্য সফর’কে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাক্ষাৎকারের আদ্যোপান্ত:
রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের আবাসিক কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান তার সঙ্গে ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক স্থায়ী এই বৈঠকে দুই নেতা কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জামায়াত আমিরের অভিনন্দন:
সাক্ষাৎ শেষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি তারেক রহমানকে 'বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী' উল্লেখ করে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, “তার এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি প্রত্যাশা রাখি, এই সংলাপ ও দায়িত্বশীলতা রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”
সহিংসতা রোধে তারেক রহমানের আশ্বাস:
বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারেক রহমান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচন-পরবর্তী কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে নতুন সরকার কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। জামায়াত আমির এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই কোনো নাগরিকই যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়।”
দায়িত্বশীল বিরোধী দলের অঙ্গীকার:
নির্বাচিত সরকারকে জাতীয় স্বার্থে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও জামায়াত আমির স্পষ্ট করেছেন যে, তারা একটি আদর্শিক ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয় বরং সংশোধন; বাধা দেওয়া নয় বরং পর্যবেক্ষণ। যেখানেই জবাবদিহিতার প্রয়োজন হবে, সেখানেই আমরা সোচ্চার থাকব।”
প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতির পথে বাংলাদেশ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতার বাসায় গিয়ে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের প্রচলিত ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’র ধারা ভাঙার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত। গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির যে অঙ্গীকার বিএনপি চেয়ারম্যান গতকালের সংবাদ সম্মেলনে করেছিলেন, আজকের এই সফর তারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত জামায়াতের সাথে সরকারের এই প্রাথমিক বোঝাপড়া সংসদীয় কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।