এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে যা বলছেন মেসি

আর্জেন্টিনার আরেকটি নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার গল্প যেন একই সুতোয় গেঁথে দিল দুই প্রজন্মকে। ১৯৮৬ সালের দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা আর ২০২৬ সালের লিওনেল মেসি, ইংল্যান্ডকে ঘিরে দুজনের নামই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেমিফাইনালে গোল না পেলেও জয়সূচক দুই গোল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলকে ফাইনালে তুলেছেন মেসি। আর এই জয় তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি ম্যারাডোনাকে।

ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, "নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের দিনটি দারুণভাবে উপভোগ করছে। এই দিনটি তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি। ওপর থেকে যেভাবেই দেখুক, এটি তার জন্য আমাদের একটি উপহার।"

ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই ফিরে আসে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে যান। প্রথম গোলটি 'হ্যান্ড অব গড' নামে পরিচিতি পায়, আর দ্বিতীয় গোলটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়।

সে সময় ফকল্যান্ডস যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর ইংল্যান্ডকে হারানোর জয় আর্জেন্টাইনদের কাছে ছিল ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় আবেগেরও প্রতীক। ৪৪ বছর পর সেই আবেগের তীব্রতা বদলালেও ইংল্যান্ডকে ঘিরে বিশেষ অনুভূতি এখনও রয়ে গেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে।

সেমিফাইনালে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হাতে দেখা যায় 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' লেখা ব্যানার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যে তাদের কাছে শুধু আরেকটি সেমিফাইনাল ছিল না, সেটি স্পষ্ট হয়েছে খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াতেও।

মেসি বলেন, "জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু অনুভব করছিলাম। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে উঠছিল। তারা ভিন্ন এক আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছিলাম। জানতাম এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা খেলেছি।"

এই ম্যাচের মাধ্যমে আরও কয়েকটি অনন্য অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। আগামী রোববার নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামবেন তিনি নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি।

একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ থাকবে তার সামনে। আর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য, দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করা।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কণ্ঠে এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে একটি গান, "ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ বিশ্বকাপ গোলের জন্য।" আটলান্টার স্মরণীয় রাতে প্রথম দুটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শেষ স্বপ্নটি পূরণ হবে কি না, তার উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের মহারণে।