প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট ২০২৬ , ১২:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হাজারো অনলাইন যোগাযোগের মাঝেও বাস্তব জীবনে কমছে মুখোমুখি আলাপ; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি একাকিত্ব কমাচ্ছে, নাকি বাড়াচ্ছে?
একটি স্মার্টফোনে কয়েকশ বন্ধু, হাজারো অনুসারী কিংবা প্রতিদিন অসংখ্য বার্তা—তারপরও অনেক মানুষ নিজেদের একা মনে করেন। প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগের সুযোগ অভূতপূর্বভাবে বাড়িয়েছে, কিন্তু সেই যোগাযোগ সবসময় মানসিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি করছে না।
আগে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে হলে দেখা করতে হতো কিংবা ফোন করতে হতো। এখন একটি বার্তা পাঠাতেই যোগাযোগ সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, মতামত ও অনুভূতি প্রকাশ করা যায় কয়েক সেকেন্ডে। কিন্তু এই সহজ যোগাযোগের মাঝেও বাস্তব জীবনের সম্পর্ক দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব বনাম বাস্তব সম্পর্ক
অনলাইনে পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়া মানেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সংখ্যা বেশি—এমন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় মানুষ নিজের জীবনের সুন্দর অংশটিই তুলে ধরেন। ফলে অন্যের সাজানো জীবন দেখে নিজের জীবনকে তুলনা করার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা লাইক, মন্তব্য ও অনুসারীর সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
একই ঘরে, আলাদা পর্দায়
শহরের পরিবারগুলোতেও দৃশ্যটি পরিচিত—একই ঘরে কয়েকজন মানুষ বসে আছেন, কিন্তু প্রত্যেকের চোখ মোবাইলের পর্দায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তার সময় কমে যাচ্ছে।
প্রযুক্তি নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রযুক্তি বাস্তব সম্পর্কের জায়গা দখল করে নেয়।
সমাধান প্রযুক্তিবিরোধিতা নয়
মোবাইল বাদ দিয়ে জীবনযাপন করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং প্রয়োজন ব্যবহারে ভারসাম্য। পরিবারে নির্দিষ্ট সময় ফোন দূরে রাখা, বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা, হাঁটাহাঁটি, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বাস্তব সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে।
অনলাইনে শত মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি যদি পাশে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যায়, তাহলে প্রযুক্তি হয়তো একাকিত্বের কারণ নয়—বরং সম্পর্কের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।