সাকিল সৈকত

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবার ২০২৬ , ১১:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান

কূটনীতিতে বাংলাদেশের নতুন বার্তা

বিশ্বমঞ্চে তারেক রহমান

বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে এটি ছিল তাঁর প্রথম বড় কূটনৈতিক উপস্থিতি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গন তো বটেই, দেশের মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে ছিল বিশেষ আগ্রহ। কূটনৈতিক দিক থেকেও সফরটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, একই অধিবেশনে সাধারণ পরিষদ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই পরিবারের তিন সদস্যের বিশ্বমঞ্চে দেশের নেতৃত্ব প্রদান এবং নিজ দেশের একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে অধিবেশন পরিচালিত হওয়ার ঘটনা ছিল ইতিহাসে বিরল। প্রায় পাঁচ দিনের এই সফর বাংলাদেশের জন্য ছিল বহুমাত্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সফরের পুরো সময়জুড়ে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ, বিশেষ বক্তৃতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং সাধারণ পরিষদের মূল ভাষণের পাশাপাশি সাইডলাইনে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সব মিলিয়ে তিনি প্রায় ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।


প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ, সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সফরের প্রথম দিনেই তিনি ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন, যেখানে সরকারের সামগ্রিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন দেখা যায়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগেসহ একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংলাপ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সফরের সাইডলাইন কূটনীতিতে বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের চিত্র ফুটে ওঠে।

সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তিনটি দেশ সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী দিনে এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এই সফরে যেসব বিষয় সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে ছিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি। এসব বিষয় বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

রোহিঙ্গা সংকট ছিল সফরের অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সাইডলাইন বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব ইস্যুতে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন।

সফরের অর্থনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল দুটি চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেই বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সম্পাদিত হয়। সফরের শেষ পর্যায়ে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজে এই দুটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না।

এই দুটি ইস্যুতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একধরনের চাপ ছিল বলে বিভিন্ন মহলে ধারণা রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের চাপের দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। চুক্তি দুটি একদিকে বাংলাদেশের বিমান খাতের সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন বাণিজ্যিক মাত্রারও ইঙ্গিত দেয়।

এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পর্যন্ত একাধিক প্রভাবশালী নেতা অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে এবারের অধিবেশনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতেও কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারের মতো সরব উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘে বক্তব্য একদিকে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার বার্তা বহন করেছে, অন্যদিকে নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বোয়িং চুক্তি এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা এমন সময়ে সম্পাদিত হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রী নিজে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে। তবে তিনি সরাসরি এসব চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়াকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে জলবায়ু ন্যায়বিচার, এই বিস্তৃত আলোচ্যসূচি বাংলাদেশের একটি সমন্বিত কূটনৈতিক কৌশলের চিত্র তুলে ধরে। অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি মানবিক ও বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া যৌথভাবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের তৃতীয় দিনের বিকেলে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ছিলেন ১১তম বক্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ।

প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নতুন নির্বাচিত সাধারণ পরিষদ সভাপতিকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বিদায়ী সভাপতি আনালেনা বেয়ারবককে তাঁর নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

ভাষণে কোভিড-১৯ মহামারির শিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য হিসেবে উঠে আসে। মহামারি কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিলেও এটি বিশ্বকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয় সরঞ্জামের টেকসই এবং সহজলভ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসমতার প্রশ্নে এটি দক্ষিণের দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনযাপন করবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা হিসেবেও পাঠ করা যায়। বিশ্বমঞ্চে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের একটি কাঙ্ক্ষিত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা ছিল এতে।

বাংলাদেশকে একটি শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। সফরের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য বাংলাদেশের পারমাণবিক নীতির শান্তিপূর্ণ চরিত্র পুনর্ব্যক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

ভাষণে বৈশ্বিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান, কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মুসলিম বিশ্ব ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতির ধারাবাহিক অবস্থানের প্রতিফলনও এতে দেখা যায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বানও জানানো হয় ভাষণে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি তুলে ধরে আসছে। ফলে জাতিসংঘের এবারের ভাষণেও বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। তবে এ উদ্যোগের বিস্তারিত রূপরেখা সম্পর্কে প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য এখনও সীমিত। এটি নাগরিক সেবা ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের বৃহত্তর সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হবে, তা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তারেক রহমানের সম্পূর্ণ বাংলায় ভাষণ এবং পিতা-মাতার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতি প্রকাশ্য শ্রদ্ধা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক ভাষ্যকে মূলত ধারাবাহিকতা ও পরিচয়ের একটি আখ্যানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে নিরস্ত্রীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন এবং বহুপাক্ষিকতার মতো নীতিগত বিষয়গুলো প্রচলিত কূটনৈতিক ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল একাধিক মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় একই সফরের আলোচ্যসূচিতে জায়গা পেয়েছে। ফলে সফরটি শুধু জাতিসংঘের একটি অধিবেশনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার, কূটনৈতিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততার একটি বিস্তৃত চিত্রও তুলে ধরেছে।

লেখক: নির্মাতা ও সংস্কৃতিকর্মী