ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

মেটার ব্যবস্থায় ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক পেজ অদৃশ্য

মেটার ব্যবস্থায় ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক পেজ অদৃশ্য

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর - সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের প্রায় ২২ লাখ অনুসারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ সরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। শুক্রবার রাত থেকে তার পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই সময়ে দেশের দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ছাড়াও ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

এই ঘটনাবহুল সময়ে বৃহস্পতিবার রাতে ইলিয়াস হোসেন তার ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্ট দেন। পরবর্তীতে এসব পোস্টকে উস্কানিমূলক বলে অভিযোগ ওঠে। সমালোচকরা দাবি করেন, এসব বক্তব্য সহিংসতা উসকে দিতে পারে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এরপরই শুক্রবার রাত থেকে তার ফেসবুক পেজটি আর দৃশ্যমান নেই।

মেটার পক্ষ থেকে এই পেজ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সহিংসতা উসকে দেওয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এসব নীতিমালা লঙ্ঘন করলে পেজ বা অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।

ফেসবুক পেজ সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে সঠিক বলে মনে করছেন, অন্যদিকে অনেকে এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে যা ব্যবহারকারীদের মেনে চলতে হয়।

ইলিয়াস হোসেন একজন পরিচিত অনলাইন ব্যক্তিত্ব এবং তার পেজটি বিপুল সংখ্যক অনুসারী ছিল। তার পোস্টগুলো নিয়মিত ব্যাপক সাড়া ফেলত। এই পেজ হারানোর বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সৃষ্ট পরিস্থিতি দেশে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গণমাধ্যম অফিস ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা নিন্দিত হয়েছে ব্যাপকভাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারও আলোচনা উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মেটা সাধারণত তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট বা পেজের বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেয় না। তবে ব্যবহারকারীদের আপিল করার সুযোগ থাকে। এই ক্ষেত্রে ইলিয়াস হোসেন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনাটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, সহিংসতা রোধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।