ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বিজয়ের পর উৎসব নয়, দেশজুড়ে দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

বিজয়ের পর উৎসব নয়, দেশজুড়ে দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল আসনে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোনো প্রকার বিজয় মিছিল বা আনন্দ উল্লাস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর পরিবর্তে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার বাদ জুম’আ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবে নিষেধাজ্ঞা, প্রার্থনায় গুরুত্ব

নির্বাচনী ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিজয় মিছিলের আমেজ দেখা দিলেও, বিএনপি এবার ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক বিজয় উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা বা জনসভা করা হবে না। বরং এই বিজয়কে মহান আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে পালন করতে চায় দলটি।

বেগম জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রয়াত নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনমতের প্রতিফলনে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে।

সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আহ্বান

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মসজিদ নয়, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় শরিক হতে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।

রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া

বিশ্লেষকরা বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে একটি 'পরিপক্ব রাজনৈতিক পদক্ষেপ' হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফেরার পথে এমন সংযত আচরণ দেশে রাজনৈতিক সহনশীলতার নতুন সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এর আগেই বিএনপির এই আধ্যাত্মিক কর্মসূচি ঘোষণা তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে ভিন্নধর্মী এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।