ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বার ২০২৫, ০১:০৬ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে বাম্পার ফলনে ভারতে পেঁয়াজের শেষকৃত্য!

বাংলাদেশে বাম্পার ফলনে ভারতে পেঁয়াজের শেষকৃত্য!

চলতি বছর বাংলাদেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বিগত সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর জেরে কঠিন সংকটে পড়েছেন ভারতীয় কৃষকরা, বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর অঞ্চলের চাষিরা। বাংলাদেশের বাজার হারিয়ে এবং স্থানীয়ভাবে দাম না পেয়ে কার্যত পথে বসেছেন তারা।

পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, কেজিপ্রতি মাত্র দুই রুপিতেও পেঁয়াজ কেনার মতো কেউ নেই দেশটিতে। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে পচে যাচ্ছে। এই চরম হতাশা, ক্ষোভ ও রাগ থেকেই এক অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা। তারা ঘটা করে আয়োজন করছেন পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্যের। প্রতীকী এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এবং ভাইরাল হয়েছে।

সরকারি তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের সুবিধা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সরকার আমদানি বন্ধ রেখেছে। দেশের বাজারে মৌসুমের শুরু থেকেই নতুন পেঁয়াজের সরবরাহে স্বস্তি বিরাজ করছে। সামনে আসছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ, যা দেশের মোট রবি মৌসুমের উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে এবং তিন থেকে পাঁচ মাস বাজার স্থিতিশীল রাখে। এর সঙ্গে খারিফ-১ মৌসুমের উৎপাদন যুক্ত হওয়ায় সারা বছরই দেশীয় পেঁয়াজের যোগান বজায় থাকছে।

অন্যদিকে, ভারতের গণমাধ্যম 'ইকোনমিক টাইমস' জানিয়েছে, বাংলাদেশ পূর্বে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত। সেই দরজা এবার বন্ধ হওয়ায় ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বড় ধাক্কা খেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের স্বার্থেই আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, রপ্তানি বন্ধ থাকাই এই সংকটের মূল কারণ। তবে বাংলাদেশের কৃষকেরা এখন দেশীয় উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত।

পেঁয়াজের এই প্রতীকী শেষকৃত্য ভারতের কৃষকদের চরম দুর্দশার এক কৌতুকপূর্ণ কিন্তু মর্মান্তিক প্রতিফলন।