ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে। এতে বাংলাদেশের টেকসই ও সুশৃঙ্খল উত্তরণের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিষয়। তাই মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয় যে, দুই দেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির অনুরোধটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা সমীচীন হবে। সেই সুপারিশের ধারাবাহিকতায় ইকোসক বিষয়টি সাধারণ পরিষদের কাছে পাঠিয়েছে।

বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করলে দুই দেশই অতিরিক্ত সময় পাবে, যা অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি-উত্তর সময়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশের প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য এলডিসি উত্তরণের গতি কমানোর বিষয় নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করার সুযোগ, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নকে আরও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়তা করবে।