ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

প্রশাসনে পক্ষপাতের অভিযোগ জামায়াতের

প্রশাসনে পক্ষপাতের অভিযোগ জামায়াতের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে মারাত্মক পক্ষপাতিত্ব ও অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, কিছু অসাধু কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। রবিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয় জামায়াতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি অভিযোগ করে যে, বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে দলীয় আমিরের নির্বাচনী এলাকায় নারী কর্মীদের হেনস্তা ও সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া পটুয়াখালীর বাউফল আসনে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতের অভিযোগ এনে সেখানকার ওসির দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেন জুবায়ের। তিনি জানান, ওই ওসি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক আচরণে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিনিধি দলটি দাবি করে।

নারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জুবায়ের জানান, এটি মূলত একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আমিরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপত্তিকর তথ্য ছড়ানোর পেছনে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন তিনি। একইসাথে লক্ষ লক্ষ বোরকা বানানোর অভিযোগকে বিএনপির ‘কাল্পনিক নাটক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের প্রতি নারী সমাজের বিপুল সমর্থন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতের অভিযোগ এবং ওসির প্রত্যাহার চাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, নির্বাচনী লড়াইয়ে এখন আর কোনো পক্ষই ছাড় দিতে নারাজ। পটুয়াখালী ও পাবনার মতো আসনগুলোতে স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের যে অভিযোগ জামায়াত তুলেছে, তা ইসির নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, বোরকা ইস্যু বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যাকিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মূলত ভোটব্যাংক রক্ষার লড়াই। প্রশাসনের ভূমিকা যদি দ্রুত স্বচ্ছ না হয়, তবে ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।