-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের ২৩১, সিনেটে ৫৪ আসন; কংগ্রেসে সাত মুসলিম নির্বাচিত, প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল সাইয়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মাঝপথে এই ফল তাঁর প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের বড় রাজনৈতিক বার্তা। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করে না। নতুন কংগ্রেস জানুয়ারিতে দায়িত্ব নিলে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাবে এবং হোয়াইট হাউসের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়বে।
প্রাথমিক, অনানুষ্ঠানিক আসন-হিসাবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২৩১টি এবং রিপাবলিকানরা ১৪১টি আসনে বিজয়ী বা এগিয়ে ছিলেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ককাস করা দুই স্বতন্ত্র সদস্যসহ ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত পক্ষের আসন ছিল অন্তত ৫৪টি, রিপাবলিকানদের ৪৪টি। এই হিসাব ৪ নভেম্বর ভোরে প্রকাশিত ফল-ঘোষণার ভিত্তিতে; তখন প্রতিনিধি পরিষদের বহু আসনের গণনা চলছিল এবং আলাস্কা ও মিসিসিপির সিনেট-দৌড়ও অমীমাংসিত ছিল। তাই সংখ্যাগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি ফল না ধরে ওই সময়ের সংবাদমাধ্যমের হিসাব হিসেবে দেখা উচিত।
সিনেটের লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত সাতটি আসন ছিনিয়ে নেয়। উত্তর ক্যারোলাইনা, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া ও মেইনে দলটির জয় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে দিয়েছে। টেক্সাসে জেমস তালারিকোর জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিন দশকের বেশি সময় পর রাজ্যটি থেকে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়ও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে বড় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের জয় রিপাবলিকান-সমর্থিত বহু এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। আইওয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ায় আসন বদলের পাশাপাশি কেনটাকি, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, ওহাইও ও ইউটাহতে নতুন ডেমোক্র্যাট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইওয়ার তিনটি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কারণ নির্বাচনের আগে রাজ্যটির পুরো প্রতিনিধি-দলই ছিল রিপাবলিকান। ফলটি দেখাচ্ছে, ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি শুধু তাদের প্রচলিত ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, ট্রাম্প ২০২৪ সালে জিতেছিলেন এমন এলাকাতেও রিপাবলিকানদের সমর্থন কমেছে।
গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ৩৬টি রাজ্যে গভর্নর পদে ভোট হয়েছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন। জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস, আইওয়ায় রব স্যান্ড এবং ওহাইওতে অ্যামি অ্যাকটনের জয়ও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য প্রশাসন ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার ঘটনা। নেভাদাতেও ডেমোক্র্যাটরা গভর্নরের আসন বদলেছে। নিউইয়র্কে ক্যাথি হোকুলসহ একাধিক ডেমোক্র্যাট গভর্নর পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক, কংগ্রেসে অন্তত সাতজন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছেন বলে ৪ নভেম্বরের সংবাদ প্রতিবেদনগুলো জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে মিশিগান থেকে সিনেটে নির্বাচিত আবদুল আল সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন। প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইন্ডিয়ানার আন্দ্রে কারসন, মিনেসোটার ইলহান ওমর, মিশিগানের রাশিদা তালাইব এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লতিফা সাইমন। নতুন করে নির্বাচিত হয়েছেন নিউ জার্সির আদম হামাওয়ি এবং নিউইয়র্কের দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। এই সাতজনের হিসাব কংগ্রেসের জন্য; রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম প্রার্থীদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল জেলায় আয়েশা ওয়াহাব পূর্ণ মেয়াদের জন্য এগিয়ে ছিলেন, তবে ৪ নভেম্বর বিকেলের একটি প্রতিবেদনে তাঁর দৌড়কে তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বলা হয়নি। তিনি জিতলে কংগ্রেসে মুসলিম নির্বাচিতদের সংখ্যা আটে পৌঁছাবে। এই পরিচয়ভিত্তিক সংখ্যা সংবাদমাধ্যমের প্রার্থীদের পরিচিতি ও প্রতিবেদননির্ভর, সরকারি নির্বাচনী ফলাফলের আলাদা কোনো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস নয়।
ভোটারদের অসন্তোষের কেন্দ্রে ছিল অর্থনীতি ও সরকারের জবাবদিহি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রায় ৮০ হাজার ভোটারকে নিয়ে করা জরিপে প্রায় অর্ধেক ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতির উদ্বেগকে কংগ্রেস নির্বাচনে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলেছেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার অর্থনীতিকে ভালো নয় বা দুর্বল বলে মূল্যায়ন করেছেন, আর প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন মূল্যস্ফীতি তাঁদের পরিবারকে মাঝারি বা গুরুতর আর্থিক চাপে ফেলেছে। জরিপে তরুণ ও হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে ২০২৪ সালের তুলনায় রিপাবলিকানদের সমর্থন কমারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, অভিবাসন ও পররাষ্ট্রনীতি আলোচনায় থাকলেও ভোটের দিনে নিত্যব্যয়, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি অনেক ভোটারের কাছে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছিল।
নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারির বাড়তি সুযোগ পাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে তদন্ত ও শুনানি বাড়তে পারে, আবার প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেটে আইন পাসের নিয়মের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থাও তৈরি হতে পারে। ফলে আগামী দুই বছর শুধু ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরীক্ষা নয়, বরং হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা বা সংঘাতেরও পরীক্ষা।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান পাঠকদের জন্য ফলটি অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে নতুন বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে অভিবাসননীতি বা অন্য কোনো ফেডারেল নীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাস্তব পরিবর্তন নির্ভর করবে পরবর্তী আইন, বাজেট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও আদালতের ভূমিকার ওপর।
“ভোটের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের জবাবদিহি।”