প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবার ২০২৬ , ০৬:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা ও সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ একটি উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত না করে এর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ উদ্যোগে জাতীয় নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তা জে ক্লেটনের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে কাজ করছেন।
সাইবার নিরাপত্তা থেকে কর্মসংস্থান—নানা উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এআইয়ের কারণে চাকরির ধরন পরিবর্তন, কিছু পেশায় কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তি পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা হলো, এসব ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সরকারকে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে আগাম সতর্ক করতে পারে, তার একটি কাঠামো তৈরি করা। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উদ্ভাবন ধরে রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা
ট্রাম্প প্রশাসন এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে দ্রুত উদ্ভাবন অব্যাহত রাখাকে প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কংগ্রেসের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আলোচনা শুরু হয়েছে। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনসাধারণের উদ্বেগ কমানো এবং একই সঙ্গে উদ্ভাবনের গতি বজায় রাখাই উদ্যোগটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয় নয়; জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।