ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

টেকনাফ সীমান্তে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল জনপদ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার রাতে পরপর কয়েকটি ভারী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী এলাকা। বিকট শব্দ ও কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জনপদে। অনেক বাসিন্দা ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পর প্রায় ১৫ মিনিটের ব্যবধানে চার দফা ভারী মর্টারশেল বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। নাফ নদীর ওপার থেকে আগুনের ঝলকও দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনিছুর রহমান বলেন, হঠাৎ প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব হয়। পরপর চারটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের শিখাও দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষ চলাকালে মর্টারশেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম বলেন, প্রায় সাত মাস পর আবারও সীমান্তের ওপার থেকে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, শব্দটি মিয়ানমারের দিক থেকেই আসছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, দীর্ঘদিন পর মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি টেকনাফ সীমান্তে অনুভূত হয়েছে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সেই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে, যার কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছেন বলেও জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির শব্দ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সময়ও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মর্টারশেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর রাখাইনে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় আবারও উদ্বেগ ও আতঙ্ক ফিরে এসেছে।