-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে, খালেদা জিয়ার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা বেশ জটিল পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুসসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। চিকিৎসকেরা এখনো তার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছেন। বর্তমানে তাকে ঢাকায় রেখেই চিকিৎসা করা হবে এবং প্রতিদিনই তার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ হলো, কিডনি কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থায় স্থায়ী উন্নতি আসা কঠিন।
কাতার আমিরের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স স্থগিত
এ পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি। কাতার আমিরের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেটিও স্থগিত রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য কাতার আমিরের পক্ষ থেকে জার্মানভিত্তিক এয়ারলাইনস এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছিল। নিয়মানুযায়ী, এফএআই এভিয়েশন গত শনিবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য অনুমতির আবেদন করে এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অনুমোদনও দেয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্র জানায়, গত শনিবারের আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরদিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সূচি চাওয়া হয়েছিল। তবে এই সূচির পরিবর্তন হয়েছে।
ডা. জুবাইদা রহমানের তদারকি
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিদিনই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন এবং চিকিৎসার তদারকি করছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার দেখভাল করছেন।"
চিকিৎসকেরা মনে করছেন, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশি বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।