প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অন্যতম প্রধান পথ গ্রিন কার্ড পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে। গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রিম এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত স্বল্প আয়ের দেশগুলো থেকে অভিবাসন নিরুৎসাহিত করা এবং আবেদনকারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে করা স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত (বন্ড) আরোপের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। কিছু কর্মকর্তা এই জামানতের পরিমাণ এক লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এ নীতি চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে। আবেদনকারীদের জামানতের অর্থ আগাম জমা দিতে হবে। তবে সবার জন্য একই অঙ্কের অর্থ প্রযোজ্য নাও হতে পারে। আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় জামানতের পরিমাণ নির্ধারিত হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাবেন। যদিও নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই জামানত এক ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের ব্যয়ভার বহনে ব্যর্থ হলে সরকারের জন্য এটি একটি সুরক্ষাবলয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। তিনি জানান, কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রাপ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল অঙ্কের এই জামানতের প্রস্তাব মূলত নিম্ন আয়ের দেশগুলোর আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারীর পক্ষেই এত বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব হবে না।
এ ধরনের অভিবাসী ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিকটাত্মীয়দের জন্য প্রযোজ্য। এর আওতায় স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনরা আবেদন করতে পারেন। গত বছর এ ধরনের প্রায় পাঁচ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল।
স্বল্প আয়ের বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন সীমিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই নতুন এই প্রস্তাব এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রশাসন ৭৫টি নির্দিষ্ট দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার সেই নীতি বর্তমানে বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
অন্যদিকে, জুন মাসে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসার আবেদন জমা দেওয়া নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের উদ্যোগও আইনি বাধার মুখে পড়ে। একজন ফেডারেল বিচারক রায়ে বলেন, এ ধরনের ফি কার্যত একটি করের সমতুল্য এবং এমন কর আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন 'ট্রাম্প গোল্ড কার্ড' নামে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। এর জন্য নির্ধারিত মূল্য ছিল ১০ লাখ মার্কিন ডলার এবং আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি ছিল ১৫ হাজার ডলার। তবে কর্মসূচিটি প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। গত মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র একটি আবেদন।