ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গোপন বৈঠকের রাজনীতি নিয়ে জামায়াতকে চরমোনাই পীরের কড়া হুঁশিয়ারি

গোপন বৈঠকের রাজনীতি নিয়ে জামায়াতকে চরমোনাই পীরের কড়া হুঁশিয়ারি

নরসিংদীর পুলিশ লাইন্স এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াত প্রকাশ্যে যা বলে, বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের নেতারা একদিকে স্বচ্ছ রাজনীতির কথা বলেন, অন্যদিকে ভারত ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। এই ধরনের গোপনীয়তা জনমনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ বা কোথাও বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। চরমোনাই পীর দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন এবং তারা বিষয়টি বুঝে গেছে, তাই ধোঁকা দিয়ে সাধারণ মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না।

নির্বাচনী এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন কূটনৈতিক আলোচনা বা বৈঠক করতে পারে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বৈঠকগুলো কেন জনসমক্ষে না এনে অত্যন্ত গোপনে পরিচালনা করা হচ্ছে? এই লুকোচুরির কারণ কী তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অনেকে মনে করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই নির্বাচনী মাঠে একা হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে স্বয়ং মহান আল্লাহ আছেন, দেশের হক্কানী উলামায়ে কেরাম আছেন এবং এক বিশাল দেশপ্রেমিক জনতা রয়েছেন। তাই কোনো অপশক্তির গোপন আঁতাত তাদের অগ্রযাত্রাকে দমাতে পারবে না।

ইসলামী আদর্শের ওপর অবিচল থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবল ক্ষমতার জন্য আপস করা মুমিনের কাজ নয়। ইসলামের পথে চললে দুনিয়াতে শান্তি এবং আখিরাতে মুক্তি নিশ্চিত হয়। জামায়াত নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা এক ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই দেশ পরিচালনা করতে চেয়েছে, যা প্রকৃত ইসলামি বিপ্লবের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। এমতাবস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

মুফতি রেজাউল করীম ঘোষণা করেন যে, বাংলার জমিনে ইসলামের সুমহান মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং মানবতার অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে তার দল হাতপাখা প্রতীক নিয়ে সারা দেশে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। তিনি দাবি করেন, প্রচলিত দলগুলোর শাসন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একমাত্র ইসলামী আন্দোলনই পারে দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত একটি প্রকৃত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী নির্বাচনে হাতপাখার বিজয় নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে।

নরসিংদী সদর আসনের প্রার্থী ও জেলা শাখার সভাপতি আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার অন্যান্য আসনের প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে আসা হাজারো নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বাতিলের সাথে কোনো আপস নয়, বরং হকের পথে অবিচল থাকাই বড় বিজয়। তিনি কর্মীদের ধৈর্য ও সাহসের সাথে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। নরসিংদীর এই জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলার ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।