ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

গণভোটের ম্যান্ডেট অস্বীকার রাজনৈতিক প্রতারণা: জেএসডি

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সাংবিধানিক পুনর্গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) অভিযোগ করেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পরিবর্তে প্রচলিত সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। দলটির ভাষায়, এটি জনগণের গণরায় ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বুধবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন এসব কথা বলেন। তাঁরা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং এটি ছিল রাষ্ট্রের বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামো পুনর্বিন্যাস, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণভোটে জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে এবং সে লক্ষ্যে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ম্যান্ডেট প্রদান করেছে। ফলে সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সীমিত পরিসরের সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে জেএসডি।

দলটির নেতারা বলেন, সংবিধান কোনো সরকার বা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক দলিল নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম সম্মতির ভিত্তিতে গঠিত একটি সামাজিক ও সাংবিধানিক চুক্তি। তাই জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে প্রচলিত সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করার শামিল।

জেএসডির মতে, নির্বাচনপূর্ব সময়ে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান উদ্যোগ তার পরিপন্থী। তারা একে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়, বরং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা বলেও অভিহিত করেছে।

দলটি অবিলম্বে গণভোটে অনুমোদিত ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো প্রণয়ন করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ভিত্তি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ। সেই গণরায় উপেক্ষা করে সরকার যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পরিবর্তে প্রচলিত সংশোধন প্রক্রিয়াকেই এগিয়ে নেয়, তবে ভবিষ্যতে সৃষ্ট রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনি সংকটের দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।