-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের কোনো দেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে । নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিএনপির ভাইস–চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান দুজনই এই তথ্য জানিয়েছেন । আহমেদ আযম খান আরও বলেছেন, খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ।
তবে, এখনও বিদেশে যাওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা বেগম জিয়ার হয়নি বলে দুই নেতাই নিশ্চিত করেছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে সেই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন আহমেদ আযম খান। তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
প্রায় আশি বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। ফুসফুসে সংক্রমণ এবং হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে তিনি গত ২৩ নভেম্বর আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মান্না শনিবার (২৯ নভেম্বর) এভারকেয়ার হাসপাতালে অসুস্থ খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসকেরা আশাব্যঞ্জক কোনো খবর দেননি; বরং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার অবস্থা গতদিনের মতোই সংকটাপন্ন—না উন্নতি হয়েছে, না অবনতি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে সেবা দিচ্ছেন এবং বন্ধুপ্রতিম কয়েকটি রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, অবস্থার যদি বিদেশে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়, তবে সে সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডই নেবে।
এদিকে, ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম সকালে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান এবং বাইরে এসে সবার কাছে দোয়া চান। জাতীয় নাগরিক পার্টির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলও খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে ডা. তাসনিম জারা জানান, অবস্থার অবনতি হলেও খালেদা জিয়া সজাগ ও সজ্ঞানে আছেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা বুঝতে পারছেন।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন । এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা নিয়মিত চিকিৎসার অগ্রগতির খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে গিয়ে বেগম জিয়ার অবস্থার খোঁজ নেন।