ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:১০ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

এলাকাভিত্তিক বাড়ি ভাড়ার তালিকা ও রেট চার্ট করে দেবে ডিএনসিসি

এলাকাভিত্তিক বাড়ি ভাড়ার তালিকা ও রেট চার্ট করে দেবে ডিএনসিসি

রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ভাড়া কত হবে এবং কী কী সেবার ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ‘রেট চার্ট’ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. এজাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষায় আয়োজিত এক বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

ডিএনসিসির প্রশাসক জানান, ১৯৯১ সালের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। এই অচলায়তন ভাঙতে এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধের মধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে এলাকাভেদে ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হবে, যাতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে উভয় পক্ষের ব্যবহারের জন্য একটি মানসম্মত চুক্তিনামা বা এগ্রিমেন্ট ফরম্যাট যুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে বলা হয়, শুধু ভাড়া নির্ধারণই নয়, ভবনের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও এখন থেকে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। প্রতিটি ভাড়া দেওয়া বাসায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভূমিকম্প সহনীয় কাঠামো নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ভাড়াটিয়ারা যাতে যখন ইচ্ছা বাসায় প্রবেশ বা বের হতে পারেন, সেই স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসক আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, রেসিডেন্সিয়াল বা আবাসিক হিসেবে অনুমোদিত এলাকায় কমার্শিয়াল কার্যক্রম বন্ধে সিটি করপোরেশন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স বা কর ফাঁকি রোধে নতুন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয় আলোচনায়। প্রশাসক বলেন, অনেক মালিক ভাড়াটিয়াদের থেকে উচ্চ হারে ভাড়া আদায় করলেও সিটি করপোরেশনে কম দেখিয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দেন। এখন থেকে ভাড়াটিয়ারা যাতে জানতে পারেন ওই বাড়ির মালিক সঠিক তথ্য দিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করছেন কি না, সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। ট্যাক্স বকেয়া থাকলে ওই বাড়িতে সিটি করপোরেশনের সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ঢাকার আবাসন সংকট ও ভাড়ার ঊর্ধ্বগতি নিয়ে পরিসংখ্যান বেশ উদ্বেগজনক। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্যমতে, গত ২৫ বছরে ঢাকায় বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ, যা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ। নগরীর ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেক এবং ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাড়ি ভাড়ায় ব্যয় করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসকারীদের ৭২ শতাংশই ভাড়াটিয়া। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সীমিত বাসস্থানের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের এই সংকট ও অরাজকতা নিরসনে ডিএনসিসির এই ‘রেট চার্ট’ ও তদারকি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।