ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

আমির পদে নারী অসম্ভব: আল জাজিরাকে জামায়াত আমির

আমির পদে নারী অসম্ভব: আল জাজিরাকে জামায়াত আমির

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’কে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নারী নেতৃত্ব, ইসলামী আইন এবং ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন তিনি।

‘সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণেই নেতৃত্বে নারী নয়’

দলের শীর্ষ পদে কোনো নারী আসতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, "এটি সম্ভব নয়।" এর কারণ হিসেবে তিনি ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের’ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সন্তান জন্মদান ও লালন-পালনের মতো কিছু প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নারীদের পক্ষে দলের আমিরের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করা কঠিন। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশে দীর্ঘকাল নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও তারা সেটির বিরুদ্ধে কোনো সহিংস প্রতিবাদ করেননি।

সংসদ নির্বাচনে কেন নারী প্রার্থী নেই?

চলমান নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়ে আমির জানান, এটি কোনো অসম্মান নয়, বরং প্রস্তুতির বিষয়। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের বোনদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি করছি। ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ জাতীয় সংসদেও তাদের দেখা যাবে।" এছাড়া নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, এটি তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ, যাতে মায়েরা সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন।

ইসলামী আইন ও জনআকাঙ্ক্ষা

জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামী আইন চালু করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা বর্তমান আইনের অধীনেই নির্বাচনে লড়ছি। কোনো কিছুই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া হবে না। যদি দেশের উন্নতির জন্য ইসলামী আইন অপরিহার্য মনে হয়, তবে সংসদই সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।"

১৯৭১ ও ভারত সম্পর্ক

একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তৎকালীন জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নয়। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’ বলে দাবি করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ হিসেবে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আগেই ক্ষমা চেয়েছেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সম্পর্ক হবে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানের। আমরা ভারতের অস্বস্তির কারণ হব না, বিনিময়ে আমরাও তাদের কাছ থেকে স্বস্তি আশা করি।" শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে তিনি কোনো সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন।

তরুণ প্রজন্মের সমর্থন

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের সাফল্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণরা বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আদর্শের প্রতি আস্থা রাখছে। এটিই প্রমাণ করে যে জামায়াত আগামীর বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম।