ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ০১ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:০৩ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

আজ থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন

আজ থেকে সীমিত পরিসরে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন

প্রায় নয় মাস পর আজ শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বরে শুধুমাত্র দিনে গিয়ে দিনে ফেরার ভিত্তিতে দ্বীপে ভ্রমণ করা যাবে।

প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে দুটি জাহাজ চালুর পরিকল্পনা ছিল, তবে মালিকপক্ষ আপাতত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম এখনও চালু না হওয়ায় এবং দিনে গিয়ে ফেরার নিয়মে পর্যটক সাড়া না পাওয়ার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল আপাতত বন্ধ থাকবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নিয়ম মেনে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি চলছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে না। সব পর্যটককে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন টিকিট কিনতে হবে, যেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

নভেম্বর মাসে পর্যটকদের রাত্রিযাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে রাত কাটানোর অনুমতি দেওয়া হবে, আর ফেব্রুয়ারিতে দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে— সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়া বনে প্রবেশ বা কেয়া ফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ। এছাড়া সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, মোটরচালিত যান চলাচল ও পলিথিন বহনও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী যেমন চিপস প্যাকেট, স্ট্র, প্লাস্টিক চামচ, মিনিপ্যাক সাবান বা শ্যাম্পু ইত্যাদি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক বহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্বীপে বর্জ্য কম তৈরি হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন এবং কিউআর কোড যাচাইসহ সব নিয়ম কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

সরকার আশা করছে, নতুন নীতিমালার ফলে সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটনের উদাহরণ হয়ে উঠবে।