খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

'শেষ মুহূর্তের এই স্মৃতি অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে’

বিশ্বকাপের ফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় খেলায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল থ্রি লায়ন্সরা। তবে শেষ মুহূর্তে লিওনেল মেসির জাদুকরী দুটি অ্যাসিস্টে সব হিসাব বদলে দেয় আর্জেন্টিনা।

নাটকীয়ভাবে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পর হতাশা লুকাতে পারেননি ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন। তাঁর ভাষায়, এই ম্যাচের স্মৃতি দীর্ঘদিন তাড়া করে ফিরবে ইংল্যান্ড দলকে।

ম্যাচ শেষে বার্ন বলেন, ‘সত্যিই ভীষণ ভেঙে পড়েছি। এই ম্যাচের স্মৃতি আমাদের অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে।’

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এরপর বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। ৮২ মিনিটে রিস জেমসের পরিবর্তে মাঠে নামেন ড্যান বার্ন। তখনও ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিলেন।

কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে বদলে যায় দৃশ্যপট। আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে। ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির বাড়ানো বল থেকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ে মেসির আরেকটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল।

পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বার্ন বলেন, শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেললেও এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপদের কারণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাচ পরিকল্পনা বেশ ভালোভাবেই বাস্তবায়ন করেছিলাম। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা খুব রক্ষণাত্মক ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি ক্রস করার সুযোগ দিয়েছি। এত উচ্চমানের একটি দলের বিপক্ষে এমন সুযোগ দিলে তার মূল্য দিতেই হয়।’

এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। অন্য সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্সকে। ফলে আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী মহারণ। যেখানে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেন।