এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ সুগম করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত রায় দেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, সরকার ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ করে। সে সময় প্রণীত আইনে অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে সরকারি চাকরিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আইনে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অধিগ্রহণের আগে চাকরির সময়ের ৫০ শতাংশ পেনশন ও গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে গণনার বিধান রাখা হয়।

এই বিধানের বিরোধিতা করে অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দাবি করেন, তারা আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই সরকারি চাকরিতেও সেই মর্যাদা ও জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখা উচিত। পাশাপাশি চাকরিকালের ৫০ শতাংশ নয়, পূর্ণ সময় গণনারও দাবি জানান তারা। এ দাবিতে তারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করে কয়েকটি বিধান বাতিল করেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সরকারের আপিল মঞ্জুর করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

তিনি আরও জানান, শুরুতে শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার হলেও গত এক যুগে অবসরসহ বিভিন্ন কারণে তা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে এ রায়ের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হলো।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে অধিগ্রহণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনা করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।