ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের সফরসূচি অনুযায়ী, জানাজা ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন খামেনি। ১৯৮০ সালে স্বল্প সময়ের জন্য তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে আলী খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রায় চার দশক তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

[7/2, 12:55 PM] sakil saikat: অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউপি ভোট শুরুর পরিকল্পনা, চূড়ান্ত হচ্ছে ইসির স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ


স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে সেগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।

চার অঞ্চলে ভাগ করে নির্বাচন

প্রাথমিক পরিকল্পনায় দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন চারটি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করে ধাপে ধাপে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকা, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোট কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। একই তারিখ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিতে পারবেন।

আগস্টে তপশিল, অক্টোবরে ভোট

ইসি সূত্র বলছে, অক্টোবরে ভোট আয়োজনের লক্ষ্য ধরে ভোটের ৪১ থেকে ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। প্রতি বুথে সর্বোচ্চ ৫০০ নারী ও ৬০০ পুরুষ ভোটার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইনি বিধানও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ধাপভিত্তিক নির্বাচনে নতুন পরিকল্পনা

রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে বিভিন্ন ধাপের নির্বাচনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কম থাকায় মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং ব্যালট পেপার পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালনে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল।

এ কারণে এবার ধাপ নির্ধারণে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, আবহাওয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এবং ধর্মীয় উৎসবের সময়সূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

১৫ আগস্টের মধ্যে আইন সংশোধনের লক্ষ্য

রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তপশিল ঘোষণার আগে আইন ও বিধিমালা হালনাগাদ, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল প্রস্তুত, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রকাশ ও আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ শেষ করা হবে। ভোটের অন্তত ১৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া তপশিল ঘোষণার প্রায় ১৫ দিন আগে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর প্রচারসামগ্রী অপসারণ এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুতের পর তপশিল ঘোষণা করা হবে।

তপশিলের পর যেসব কার্যক্রম

তপশিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি, অভিযোগ গ্রহণে অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ঋণখেলাপিদের তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

পাশাপাশি নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল গঠন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের অনুমোদনের কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হবে।

ভোট শেষে দ্রুত গেজেট

রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোটের ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ এবং ৬ থেকে ৭ দিনের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নামে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

কতগুলো প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৯৮১টি। মামলা ও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন নির্বাচন হয়নি। বাকি কিছু ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন ২০২৭ ও ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে বর্তমানে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। আইনি জটিলতায় ১০টি পৌরসভায় নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্যদিকে দেশের সব উপজেলা পরিষদ এবং নতুন বগুড়া সিটিসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনেই বর্তমানে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনার যা বললেন

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, অক্টোবরকে সামনে রেখেই কমিশন প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি জানান, অক্টোবরে ভোট হলে তার প্রায় ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হবে। পাশাপাশি পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।