প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
দাপুটে ফুটবল খেলেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। তবে নকআউট পর্বে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী শনিবার শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তার জন্য পরিচিত প্যারাগুয়ে।
সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি জোড়া গোল করেন, অন্য গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। চার ম্যাচে ফ্রান্সের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩, যা চলমান আসরে দলটির আক্রমণভাগের ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন এমবাপ্পে। একই সঙ্গে চলতি আসরে তাঁর গোলসংখ্যা হয়েছে ছয়, যা গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাঁকে লিওনেল মেসির সমতায় নিয়ে এসেছে। তিনটি বিশ্বকাপে মাত্র ১৮ ম্যাচে তাঁর মোট গোল এখন ১৮, ফলে সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটার ফ্রান্সের প্রশংসা করে বলেন, তাঁর দেখা দলগুলোর মধ্যে এটিই অন্যতম সেরা। তাঁর মতে, নিজেদের সেরা খেলাও খেললেও ফ্রান্সকে থামানো সম্ভব হতো কি না, তা নিয়েই তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
এক মাস আগেও ক্লাব ফুটবলে এমবাপ্পেকে ঘিরে ছিল সমালোচনার ঝড়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা দুটি ট্রফিবিহীন মৌসুম, ইনজুরি, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সমর্থকদের চাপ তাঁর পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করেছিল। তবে জাতীয় দলে ফিরে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক এমবাপ্পেকে দেখা যাচ্ছে। দিদিয়ের দেশমের অধীনে তিনি এখন আত্মবিশ্বাসী, ফিট এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণবন্ত।
এমবাপ্পের পাশাপাশি উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও ব্র্যাডলি বারকোলার সঙ্গে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগের বোঝাপড়া ফ্রান্সকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। মাঠে যেমন সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তেমনি দলের ভেতরের ঐক্যও নজর কাড়ছে।
সুইডেনের বিপক্ষে গোল করার পর সদ্য মাতৃহারা কোচ দিদিয়ের দেশমকে জড়িয়ে ধরেন এমবাপ্পে। আবেগঘন সেই মুহূর্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এই উদ্যাপনই দলের প্রকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, কোচ কখনোই একা নন, পুরো দল সব সময় তাঁর পাশে রয়েছে।
যদিও এখন পর্যন্ত ফ্রান্সের পারফরম্যান্স অনেককেই তাদের শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে ভাবতে বাধ্য করছে, তবু নকআউট ফুটবলের অনিশ্চয়তা সব হিসাবই বদলে দিতে পারে। একটি ভুল, একটি মুহূর্ত কিংবা টাইব্রেকারের ভাগ্যই পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র পাল্টে দিতে সক্ষম।
সেই কারণেই শেষ ষোলোর ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে বরাবরই রক্ষণাত্মক কৌশলের জন্য পরিচিত। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে দেশম নিজেও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১১৪ মিনিট পর্যন্ত গোলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, এই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এখন দেখার বিষয়, এমবাপ্পের গতি, ফ্রান্সের আক্রমণভাগের ধার এবং দলগত ছন্দ প্যারাগুয়ের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারে কি না। সেই উত্তরই ঠিক করে দিতে পারে ফরাসিদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তবের পথে এগোবে।