-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আগাম সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার ভোররাতের এ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত তিন ডজন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আবাসিক ভবন, অবকাঠামো ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংঘাতের অবসানে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তার ভাষ্য, পুতিনের নীতিতে ইউক্রেনের পাশাপাশি সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
হামলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা সাইরেন বাজতেই ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন ও বাঙ্কারে আশ্রয় নেন। অনেককে স্লিপিং ম্যাট ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়।
এদিকে ইউক্রেনে নতুন করে ব্যাপক হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশটি পরে জানায়, কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।