ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে চীন: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের তথ্য উঠে এসেছে এমন একগুচ্ছ গোয়েন্দা নথি তিনি অবমুক্ত করেছেন। তবে তার এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগের মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, অবমুক্ত নথিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অবকাঠামোর গুরুতর দুর্বলতার বিষয় উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, চীন অবৈধভাবে প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা এবং ভোটার নিবন্ধনের তথ্যও রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন।

তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে বা তাতে সফল হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কার জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ করা হয়েছিল যে, অন্তত ২০০৮ সাল থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার, জনমত, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং ফলাফল পূর্বাভাস দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের হাতে থাকা ভোটারদের তথ্য গোপনীয় ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এ ধরনের ভোটার তালিকা ক্রয় করে থাকে। ফলে এসব তথ্য ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করেন।

রয়টার্সের খবরে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, চীন-সংক্রান্ত এসব তথ্য প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না।