এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১১:৪৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ ঘিরে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বিস্তৃত হচ্ছে সংঘাত

আলোচনা কার্যত স্থবির। তার মধ্যেই নতুন করে সংঘাতের বৃত্তে ফিরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়েছে দুই দেশ। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। তেহরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে ইরান।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির অবকাঠামোয় নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

গত বুধবার রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও চাবাহারে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান। রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে হামলার দাবি করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালানো হয়েছে।

তবে কুয়েত জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আরও হামলা চালানো হবে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি, তাদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সব কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ভেঙে পড়েছে।

হরমুজ নিয়ে বিরোধ

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর অন্যতম এই প্রণালিকে নিজেদের কৌশলগত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখে ইরান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় না এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের একক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হোক।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, হরমুজে বাইরের কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। এমনকি প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন অপসারণেও পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে তেহরান।

বৃহস্পতিবারও ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য ‘অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা’।

তেলের ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার দাবি

গত শনিবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান। পরে মঙ্গলবার থেকে সেখানে এবং ইরানের কয়েকটি বন্দর এলাকায় নৌ অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে একটি তেলের ট্যাঙ্কার ইরানের বন্দরে ভেড়ার চেষ্টা করলে সেটিতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। বুধবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ‘বেলমা’ নামের জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

সংঘাত বন্ধের আহ্বান পাকিস্তানের

এদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাত বন্ধ করে কারিগরি ও কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তিচুক্তি বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাইব বলেন, ইসলামাবাদ সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।