এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই বিশ্বকাপ উদযাপন করতে চায় স্পেন

বিশ্বকাপের শিরোপা থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে স্পেন। আর একটি জয় পেলেই তাদের ফুটবল ইতিহাসে যোগ হবে নতুন অধ্যায়। জার্সিতে যুক্ত হবে দ্বিতীয় তারকা। সেই স্বপ্ন নিয়েই রোববারের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লা ফুরিয়া রোজা।

এই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং দলগত প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। দলের অধিনায়ক রদ্রি হার্নান্দেজ শুরু থেকেই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যের কথা বলে আসছেন। টুর্নামেন্টের প্রথমদিকে কিছুটা ছন্দ খুঁজে নিতে সময় লাগলেও ধীরে ধীরে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। এখন মাঠে দলের খেলার ছন্দ তৈরির পাশাপাশি ড্রেসিংরুমেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

রদ্রির একটাই বার্তা, তিনি বিশ্বকাপ জিততেই এসেছেন। তবে সেই লক্ষ্য পূরণের আগে নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্পেন শিবির।

দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারসাবাল জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের শুরুতে দলের মধ্যে যে শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ছিল, এখনও সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর কঠিন সময় পার করলেও নিজেদের বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি তারা।

স্পেনের ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে বড় শক্তি এখন এই সংযম। ফাইনালে ওঠার আনন্দ থাকলেও সেখানে নেই কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস কিংবা আগেভাগে উদযাপনের প্রস্তুতি। প্রতিটি ম্যাচ জয়ের পর খেলোয়াড়দের একটাই লক্ষ্য থাকে, দ্রুত পুনরুদ্ধার করে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা।

রদ্রি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজটি এখনও বাকি। কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে সবাই আশাবাদী। তবে আমরা প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখছি। প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সতর্কতার সঙ্গে নিতে হবে, কারণ বিশ্বকাপে কোনো ভুলের ক্ষমা নেই। আমরা হয়তো কখনো কল্পনাও করিনি যে এখানে পৌঁছাব, কিন্তু এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারি আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’

দলের এই মানসিকতার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির কথাতেও। ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পরও তিনি ছিলেন সংযত। তাঁর ভাষায়, ‘ভেতরে ভীষণ আনন্দ কাজ করছে, কিন্তু আমি শান্ত আছি।’

কুবার্সির মতো উনাই, লাপোর্তে, ওয়ারসাবাল ও রদ্রির মধ্যেও দেখা যাচ্ছে একই মনোভাব। তাদের কাছে জয় যেন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক পরিশ্রম ও প্রস্তুতির স্বাভাবিক ফল।

ফাইনালকে সামনে রেখে কুবার্সি বলেন, ‘আমাদের সামনে খুবই বিশেষ কিছু দিন অপেক্ষা করছে। আমরা নিউইয়র্ক যাচ্ছি। আমাদের স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে এবং আমরা এই ম্যাচটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমরা সবাই একই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দলের জন্য আমাদের যা কিছু আছে, তার সবটুকুই উজাড় করে দিতে চাই। ছোটবেলায় কেউ এমন মুহূর্তের কথা কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু এখন আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’

স্পেন জানে, ইতিহাসের একটি অংশ তারা ইতোমধ্যে লিখে ফেলেছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনও বাকি। তাই সব উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে, শিরোপা জয়ের শেষ লড়াইটিই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।