-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের এক বছর পূর্ণ হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিচার বিভাগীয় সংস্কারের কয়েকটি উদ্যোগ বাতিল হয়েছে। গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোও এখনো কার্যকর না হওয়ায় সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত বছরের ১৭ অক্টোবর ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয় মাসের সংলাপের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। এর লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা এবং নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়নের পক্ষে অনুমোদন আসে। এর মধ্যে ছিল সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার। তবে বিএনপি সরকার গঠনের পর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচারক নিয়োগ কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে সেগুলো বাতিল করা হয়। পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রেও আগের নির্বাহী ক্ষমতার কাঠামো বহাল রয়েছে।
সনদের বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।
সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, গণভোটে জনগণের অনুমোদন পাওয়ার পর সনদ বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। তাঁর আশঙ্কা, ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার উদ্যোগ বাতিল হওয়ায় রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার থেকে সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।