ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সার্ক পুনরুজ্জীবনে একমত বাংলাদেশ-মালদ্বীপ, আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন গতি

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)কে পুনরায় সক্রিয় ও কার্যকর করার উদ্যোগে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ককে নতুন করে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দুই দেশ। এতে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী মালে সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দেশটির প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতায় মালদ্বীপের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

ড. খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে আরও বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

দুই নেতা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মালদ্বীপে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পেশাজীবী ও শ্রমিকের অবদানের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু। তিনি মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশিদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেন। বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহসান এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, শিক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত এক প্রীতি চা-চক্রে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিনি মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজিত কূটনৈতিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনর্গঠনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রশ্নে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংলাপের পথ সুগম করতে পারে।