এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির সময় ইরান প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তেল বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির তেল মন্ত্রণালয়। সংকটময় এই সময়ে তেল বিক্রি থেকে অর্জিত আয় চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত তেল আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের বেশি পূরণ করেছে।

শনিবার ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে দেশটি ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছে। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির সময় বিক্রি হয়েছে আরও ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের তেল।

তবে এই তথ্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। গত জুনের শেষদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করায় সে সময় দেশটি কোনো তেল রপ্তানি করতে পারেনি।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত ১৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে ইরানের অন্তত ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে তেল পরিবহন করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতির সময় তেল রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েনের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো প্রস্তুত রাখছে, যদিও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বেসরকারি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটির জ্বালানি খাতের সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে, যার মাধ্যমে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম খাতের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছিল। তবে পরে ৭ জুলাই সেই লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং ইরানের তেল খাতে নতুন কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূচনা হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও জুলাইয়ের শুরুতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রির তথ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।