ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পেশাদার সেনাবাহিনী গঠনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সেনাবাহিনীকে আরও পেশাদার, আধুনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে মেধা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সেনাসদস্যদেরও স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, একটি কার্যকর ও পেশাদার সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে অবশ্যই স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক হতে হবে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, বরং পেশাগত উৎকর্ষ ও নৈতিক মানদণ্ডকে প্রাধান্য দেওয়া জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী শুধু দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাতেই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি এসব অবদানের জন্য সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে সেনাসদরে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতে মেধাভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি জোরদারের বার্তা হিসেবে দেখছেন, যা পেশাদার সামরিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হতে পারে।