প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটিতে পরিণত হওয়া এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় মহাসড়ক ও রেল যোগাযোগও বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দরনগরী বোর্দোর আশপাশের এলাকা। সেখানে বিভিন্ন গ্রাম থেকে অন্তত ৫০ হাজার বাসিন্দাকে দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বোর্দো থেকে স্পেন সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্দো অঞ্চলে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুন্যেস জানিয়েছেন, দাবানল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ কারণে যেসব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের আপাতত নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ। এর আগে ১৯৪৯ সালের ভয়াবহ দাবানলে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গিয়েছিল।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক হাজার দমকলকর্মী টানা কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় ফরাসি সেনাবাহিনীর দেড় হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা এই অভিযানে চরম তাপমাত্রা ও উত্তপ্ত বাতাস বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দমকল বাহিনীর অভিযানের অন্যতম নেতা ক্যাপ্টেন নিকোলা ব্রাজ জানিয়েছেন, তীব্র তাপের কারণে এলাকায় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শুষ্ক বাতাস সৃষ্টি হয়েছে, যা দাবানলকে আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।