এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

রাফাহে ‘মানবিক অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনা, গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রস্তুতি

দক্ষিণ গাজার রাফাহকে কেন্দ্র করে একটি পরীক্ষামূলক ‘মানবিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিস। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় নতুন অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতে পারে। বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়া কয়েক দশ হাজার থেকে কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে স্বেচ্ছায় ওই এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের সংগঠন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি) সেখান থেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার আওতায় এই অঞ্চলকে একটি পরীক্ষামূলক প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এখানে ফিলিস্তিনিরাই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং ধীরে ধীরে একটি কার্যকর বেসামরিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হবে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, রাফাহে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বোর্ড অব পিসের অধীন নবগঠিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)। বহুজাতিক এই বাহিনী ফিলিস্তিনি জনগণ ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে নিরাপত্তা-বেষ্টনী হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া এনসিএজি প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করবে, যেখানে আইএসএফ তাদের সহযোগিতা করবে।

বোর্ডের কর্মকর্তার দাবি, এই মানবিক অঞ্চলে নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে, কোনো সশস্ত্র ব্যক্তি বা যোদ্ধা সেখানে প্রবেশ করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, বেসামরিক জনগণের সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি কোনো যোগাযোগ থাকবে না এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও তাদের হাতে থাকবে না।

তবে এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। গাজায় কর্মরত কয়েকজন কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেছেন, প্রবেশাধিকার-নিয়ন্ত্রিত মানবিক অঞ্চল গড়ে তোলার ধারণা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, এতে বেসামরিক জনগণ কার্যত নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারেন এবং এটি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে মার্কিন সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অগ্রগতি কয়েক মাস ধরে স্থবির রয়েছে। গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের জন্য গঠিত এনসিএজি এখনো কায়রোতে অবস্থান করছে এবং গাজায় প্রবেশের সুযোগ পায়নি। অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল গাজায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে গাজা ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বোর্ড অব পিস চলতি বছরের শুরুতে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। এর ঘোষিত লক্ষ্য হলো হামাস-পরবর্তী সময়ে গাজায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং মৌলিক জনসেবা পুনরায় চালু করতে সহায়তা করা। তবে প্রস্তাবিত মানবিক অঞ্চল বাস্তবায়ন হলে তা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।