খেলাধুলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের রেফারিং বিতর্ক, যে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা

শেষ ষোলোর লড়াই শেষ হলেও আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচের রেফারিং বিতর্ক এখনও আলোচনায়। ম্যাচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসর শিবিরের তীব্র আপত্তির পর এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা জানিয়েছেন, ম্যাচে নেওয়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ফুটবলের আইন ও ভিএআর প্রোটোকল অনুসারেই হয়েছে।

ম্যাচের পর মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেন, রেফারি আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছেন। এমনকি তারা ম্যাচের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কোলিনা।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিটি গোলের পর ভিএআর পুরো আক্রমণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে। গোল হওয়ার আগে বিল্ডআপে যদি কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত থাকে, তাহলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে পারে।

মিসরের বাতিল হওয়া গোল প্রসঙ্গে কোলিনা জানান, গোলের আগে মারওয়ান আত্তিয়া বল দখলের সময় আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে আঘাত করেছিলেন, যা স্পষ্ট ফাউল। তার ভাষায়, ফাউল কোথায় হয়েছে বা গোলের কতক্ষণ আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী ফাউল হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠের রেফারি ঘটনাটি সরাসরি না দেখলেও ভিএআর সেটি শনাক্ত করে যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। তাই গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। ম্যাচের শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের বল দখলের সময় ফাউলের দাবি ওঠে। তবে ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করেছিলেন এবং পরবর্তী শারীরিক সংস্পর্শ ছিল স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ। সে কারণে ঘটনাটিকে ফাউল হিসেবে গণ্য করা হয়নি এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপেরও প্রয়োজন পড়েনি।

কোলিনা বলেন, সব সিদ্ধান্তে শতভাগ একমত হওয়া সম্ভব নয় এবং কিছু ঘটনায় ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রেফারিরা যেভাবে নিয়ম প্রয়োগ করেছেন, তাতে ফিফা সন্তুষ্ট।

রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। কোলিনার মতে, ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও প্রমাণ ছাড়া রেফারিদের পক্ষপাত বা অসততার অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অভিযোগ শুধু কর্মকর্তাদের নয়, তাদের পরিবারের জন্যও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ফিফার রেফারিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ, এমনকি ফিফা সভাপতিও ম্যাচ চলাকালে রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না।