এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৪৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ইরানে মার্কিন হামলার পর উর্ধ্বমুখী তেলের দাম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ সময় রাত ১২টা ৫৪ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়ায়।

এদিকে, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের আট সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। বুধবার ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় চালানো হামলায় নিহতরা ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘শাস্তিমূলক অভিযানের’ প্রথম ধাপে তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে এ হামলা পরিচালনা করেছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা সামরিক ঘাঁটি। তবে এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।