প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান সময়ের দুই আলোচিত দল ফ্রান্স ও মরক্কো। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলই মাঠে নামবে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। সেই ম্যাচে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচে ফ্রান্স করেছে ১৪ গোল, যার সাতটিই এসেছে এমবাপ্পের পা থেকে। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও তিনি অন্যতম শীর্ষ দাবিদার।
অন্যদিকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারানোর আগে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। টানা ৩৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচ অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাসও বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে আটলাস লায়ন্সদের।
এই ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনার আরেকটি কারণ, এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনর্মিলনী। সেই আসরে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয় লে ব্লুজদের।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের পক্ষেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত ছয়বার দেখা হয়েছে দুই দলের। এর মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে ফ্রান্স, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনও ফরাসিদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি।
দলের গভীরতা, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং টেকনিক্যাল ফুটবলে নিজেদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে দলটি। ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে গড়া আক্রমণভাগ ফ্রান্সের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মরক্কো শিবির। দলের গুরুত্বপূর্ণ উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। যদিও মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত। তিনি মাঠের বাইরে থাকলে মরক্কোর আক্রমণভাগে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ম্যাচটি পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি ফাকুন্দো তেলো। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গাব্রিয়েল চাদে। চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।
বিশ্বকাপের শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞতা ও পরিসংখ্যান ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী মরক্কো আরেকটি চমক দেখাতে পারে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।