প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি ইংল্যান্ড। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে নামার আগে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে থমাস টুখেলের দল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত মেক্সিকো সিটির পাতলা বাতাস ও তুলনামূলক কম অক্সিজেন ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত একটি ওষুধ, সিলডেনাফিল, প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে ইংল্যান্ড দলের সামনে। যৌন অক্ষমতার চিকিৎসায় বহুল পরিচিত এই ওষুধটি বাজারে "ভায়াগ্রা" নামে বেশি পরিচিত হলেও, উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যায় এর ব্যবহার নিয়ে বহু বছর ধরেই গবেষণা চলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা কিংবা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) সিলডেনাফিলকে নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় রাখেনি।
পর্তুগালের ক্রীড়া সাময়িকী আ বোলা এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চতায় খেলার সময় শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ইংল্যান্ড দলের মেডিকেল স্টাফের কাছে সিলডেনাফিল একটি সম্ভাব্য চিকিৎসা বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কেন ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে?
সিলডেনাফিল মূলত ফুসফুসের রক্তনালীগুলোকে শিথিল ও প্রসারিত করতে সাহায্য করে। উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব কম থাকায় শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এই ওষুধ সেই চাপ কমিয়ে ফুসফুসে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে পারে, ফলে খেলোয়াড়দের শ্বাস নিতে তুলনামূলক সুবিধা হয় এবং উচ্চতাজনিত ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা হলে এটি মাঠে কোনো যৌন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে না। যৌন উদ্দীপনা ছাড়া সিলডেনাফিল মূলত রক্তসঞ্চালনের ওপরই প্রভাব ফেলে। ফলে খেলার সময় বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা নেই।
আগেও ব্যবহার হয়েছে
ফুটবলে উচ্চতাজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সিলডেনাফিল ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার ক্লাব ইউনিয়ন দে সান্তা ফে ইকুয়েডরের প্রায় ২ হাজার ৮৫০ মিটার উচ্চতায় অনুষ্ঠিত এক ম্যাচের আগে একই ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিল।
আজতেকায় কঠিন ইতিহাস
শুধু ভৌগোলিক পরিবেশই নয়, আজতেকা স্টেডিয়ামের ইতিহাসও ইংল্যান্ডের জন্য সুখকর নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংলিশদের। সেই ম্যাচে কিংবদন্তি -এর বিতর্কিত "হ্যান্ড অব গড" গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
অন্যদিকে, এই মাঠে মেক্সিকোর রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। নিজেদের শেষ ৮৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি হেরেছে তারা। সর্বশেষ পরাজয়টি আসে ২০১৩ সালে।
মাঠের বাইরে সমর্থকদের চাপ
ম্যাচের আগেই ইংল্যান্ড দলকে মানসিক চাপেও ফেলেছেন স্বাগতিক সমর্থকেরা। নিরাপত্তার কারণে ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন দলের হোটেলের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করলেও মেক্সিকান সমর্থকেরা সেটি খুঁজে বের করেন। এরপর টিম বাসের সামনে জড়ো হয়ে তারা জোরালো স্লোগান ও দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন।
এ নিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ হালকা রসিকতার সুরে বলেন, "যদি মেক্সিকান সমর্থকেরা আমাদের ঘুমাতে না দেন, তাহলে আমরা কানের প্লাগ ব্যবহার করব।"
এখন দেখার বিষয়, উচ্চতার চ্যালেঞ্জ, আজতেকার ইতিহাস এবং স্বাগতিক সমর্থকদের চাপ সামলে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না ইংল্যান্ড।