এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০৫:২৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন-জেলেনস্কির ফোনালাপ, যুদ্ধে বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথক টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে। আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই ধারাবাহিক ফোনালাপকে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।

উশাকভের ভাষ্য, ফোনালাপটি ছিল ইতিবাচক ও গঠনমূলক। তিনি বলেন, রাশিয়া নিজেদের মৌলিক অবস্থান বজায় রেখেই ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং সাম্প্রতিক দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফোনালাপে পুতিন দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির জেনারেল স্টাফের বক্তব্য, শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতেই রয়েছে।

এদিকে জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, দুই নেতার মধ্যে হওয়া আলোচনা ছিল "খুবই ভালো"। তারা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসানের বাস্তব সুযোগ রয়েছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ ও সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হয়েছেন।

উশাকভ আরও জানান, ট্রাম্প বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে তারা আবারও মস্কো সফর করতে প্রস্তুত।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটের দিকেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।