ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় রিপোর্ট • প্রকাশিত: ০২ নভেম্বার ২০২৬, ১০:৪৪ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

মামদানির ‘বাংলাদেশি আন্টি’দের আদর্শ প্রতীক শাহানা মাসুম

মামদানির ‘বাংলাদেশি আন্টি’দের আদর্শ প্রতীক শাহানা মাসুম

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তাঁর বিজয়ী ভাষণে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করা বাংলাদেশি নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে শাহানা মাসুমকে আলাদা করে চিনতে পারা যায় তাঁর দীর্ঘ নাগরিক আন্দোলন, কমিউনিটি সেবা ও নেতৃত্বের কারণে। তিনি একা নন, কিন্তু তিনি এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। নীরবে কাজ করে যাওয়া সফল বাংলাদেশি নারীদের একজন আদর্শ প্রতীক।

রাজনীতির বড় মঞ্চে কখনো কখনো কয়েকটি শব্দ বহুদিনের অদেখা শ্রমকে দৃশ্যমান করে তোলে। জোহরান মামদানি তাঁর বিজয়ী ভাষণে যখন ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করা বাংলাদেশি ‘আন্টি’দের কথা বললেন, তখন তিনি শুধু একটি নির্বাচনী প্রচারদলের কথা বলেননি। তিনি সম্মান জানিয়েছেন সেই নারীদের, যাঁরা মানুষের দরজায় গেছেন, তাঁদের কথা শুনেছেন, ভোটের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন এবং নিজেদের কমিউনিটিকে নিউইয়র্কের গণতান্ত্রিক জীবনে আরও সক্রিয় করেছেন। সেই নারীদের মধ্যে শাহানা মাসুমকে সামনে নিয়ে আসা তাই যথার্থ। তাঁর কাজের দীর্ঘ পরিধি তাঁকে এই পরিচয়ের যোগ্য করে তুলেছে। 

শাহানা মাসুম। তিনি কেবল একটি নির্বাচনী প্রচারের অংশগ্রহণকারী নন, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি, মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় ও অভিবাসী কমিউনিটির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা একজন সংগঠক। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নাগরিক সম্পৃক্ততা বিষয়ক পরিচিতিতে তাঁকে কমিউনিটি নেতা, নাগরিক অংশগ্রহণের প্রবক্তা এবং সামাজিক সেবাকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁর অভিবাসী ও সংখ্যালঘু কমিউনিটির সঙ্গে তিন দশকের বেশি সময় কাজ করার কথাও বলা হয়েছে। 

তাঁর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের নাগরিক অধিকার ও অংশগ্রহণ। শাহানা বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এবং আমেরিকান সাউথ এশিয়ান কমিউনিটি সার্ভিসেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। এই ভূমিকায় তিনি অভিবাসী পরিবার, প্রবীণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নাগরিক সম্পৃক্ততা, নাগরিকত্ব প্রস্তুতি, ভোটার শিক্ষা এবং সামাজিক সেবায় প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করেন। ২০০৫ সাল থেকে নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন্সের বিভিন্ন দায়িত্বে যুক্ত থেকে তিনি ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, নির্বাচনী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়া ভোটারদের সহায়তার কাজও করেছেন। বাংলা, উর্দু ও হিন্দিতে তাঁর দক্ষতা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে সাহায্য করেছে। 

কমিউনিটি সেবায় তাঁর ভূমিকা নির্বাচনের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। মহামারির সময় শাহানা ও তাঁর বোন সাবিয়া নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের সহায়তায় একটি তহবিল গড়ে তোলেন। খাদ্য ও মাস্ক বিতরণসহ পারস্পরিক সহায়তার কাজে তাঁদের উদ্যোগ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সংকটকালে পাশে দাঁড়িয়েছিল। সাউথ এশিয়ান আমেরিকান ডিজিটাল আর্কাইভেও তাঁর নাগরিক ও পারস্পরিক সহায়তামূলক কাজের বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে। 

মামদানির সঙ্গে শাহানার পরিচয়ও নতুন নয়। হার্পার’স বাজার’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মামদানি অ্যাসেম্বলি সদস্য হওয়ার আগের সময় থেকেই তাঁকে চিনতেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, মামদানি মানুষের উদ্বেগ শুনতেন এবং নারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। এই পারস্পরিক পরিচয় ও আস্থার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের কমিউনিটি কাজ। 

শাহানা মাসুমকে সামনে আনা মানে অন্য নারীদের অবদান আড়াল করা নয়। বরং বহু নারীর সম্মিলিত সংগ্রামের ভেতর থেকে এমন একজনকে চেনা, যাঁর জীবন ও কাজ সেই সংগ্রামের শক্তি, নিষ্ঠা ও সম্ভাবনাকে স্পষ্ট করে। মামদানি তাঁর ভাষণে বাংলাদেশি ‘আন্টি’দের সম্মান দিয়েছেন, আর শাহানার দীর্ঘ পথচলা আমাদের দেখায়, এই সম্মানের পেছনে রয়েছে বহু বছরের সংগঠন, সেবা ও নেতৃত্ব।

নীরবে কাজ করা মানুষকে যথাসময়ে সামনে আনা দরকার। শাহানা মাসুম সেই স্বীকৃতির যোগ্য। তিনি নিউইয়র্কের বাংলাদেশি নারীদের সাফল্যের একজন উজ্জ্বল প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃত্বের এক অনুপ্রেরণামূলক মুখ এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ। যে আদর্শ বলে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া এবং নাগরিক জীবনে অংশ নিতে সাহস জোগানোও সমাজ বদলের শক্তিশালী পথ।