এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য: টিআইবি

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীন রাখার প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ বর্তমান আকারে পাস হলে কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬: হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবির পর্যালোচনা’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় এসব মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, সরকার জনমত গ্রহণের জন্য খসড়া আইন প্রকাশ করেছে, যেখানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন রয়েছে। কমিশনার হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা, কমিশনের সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির বিধানকে স্বাগত জানানো যায়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খসড়ায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এ কমিশনকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় কমিশনকে সরকারের এক বা একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। তার মতে, আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হবে এবং কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে না।

খসড়া আইনের ১৩ নম্বর ধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা নজরদারি সংস্থার সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা কথিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে কমিশনকে দেওয়া হয়নি। এতে গুম বা অবৈধ আটকের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি সব ধরনের আটককেন্দ্র নিয়মিত পরিদর্শন এবং অবৈধ আটককেন্দ্র শনাক্ত হলে তা বন্ধের সুপারিশ করার ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, খসড়া আইনের ২০ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, প্রতিকারের ব্যবস্থাও তাদের ওপরই নির্ভরশীল রাখা হয়েছে, যা কার্যকর জবাবদিহির পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে থাকা বিধান বহাল রাখার দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পূর্বানুমতির বিধান পুনর্বহাল না করা, কমিশনের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক ধারাগুলো সংশোধনেরও আহ্বান জানায় টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান খসড়া অপরিবর্তিত অবস্থায় আইনে পরিণত হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন খসড়ায় তার উল্লেখযোগ্য অংশ সীমিত করা হয়েছে।

টিআইবির মতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া ২০২৫ সালের অধ্যাদেশকে ভিত্তি করেই আইন প্রণয়ন করা উচিত ছিল। কিন্তু নতুন খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।