ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবার ২০২৫, ১২:২২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বৈত অবস্থান

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বৈত অবস্থান

“যদি আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, তাহলে আমরা কোনোভাবেই স্বাধীন দেশ নই”— নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমনই দৃঢ় বক্তব্য দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।


কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের কয়েক মাস না যেতেই হোয়াইট হাউজের এক অনুষ্ঠানে তিনি বললেন সম্পূর্ণ বিপরীত কথা— “আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পতাকা পোড়ানোয় কঠোর শাস্তির আহ্বান জানান, যদিও দেশটির সর্বোচ্চ আদালত এর আগে রায় দিয়েছিল— পতাকা পোড়ানোও সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশের অধিকার।

ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সামাজিক মাধ্যমে “স্বাধীন মতপ্রকাশ ফিরিয়ে আনার” অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পদক্ষেপগুলো উল্টো দিকেই গিয়েছে—

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা, বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করা এবং সমালোচনামূলক বক্তব্যকে “ঘৃণামূলক” আখ্যা দেওয়া এখন প্রশাসনিক নীতির অংশে পরিণত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

মূল ঘটনাগুলো হলো—

► আদালতের পর্যবেক্ষণ: এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনকে “প্রথম সংশোধনীর উপর সরাসরি আক্রমণ” চালানোর অভিযোগ করেছেন। তাঁর মতে, প্রশাসন প্রো-প্যালেস্টাইন শিক্ষাবিদদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

► সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন রক্ষণশীল বিচারক কোলোরাডোর একটি আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে এলজিবিটিকিউ ‘রূপান্তর থেরাপি’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা— এটি থেরাপিস্টদের মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করতে পারে।

► বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যারা ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হবে, তাদের ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

► গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ: ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন তাঁর নিযুক্ত এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারকে, যিনি টেলিভিশন উপস্থাপক জিমি কিমেলের অনুষ্ঠান বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

► মিডিয়া ও আইন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা: ট্রাম্পের একাধিক মামলা আইনি ভিত্তিতে দুর্বল হলেও সেগুলোর মাধ্যমে গণমাধ্যম ও আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।

► সামাজিক মাধ্যমের পুনরায় অনুমোদন: ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিকে, যেমন ড্যান বংগিনোকে, পুনরায় সক্রিয় করেছে— যারা আগে মহামারি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।

► “হেইট স্পিচ” অভিযান: ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি ঘোষণা দিয়েছেন, যাঁরা রক্ষণশীল নেতা চার্লি কার্কের মৃত্যুর ঘটনায় “আনন্দ প্রকাশ” করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “হেইট স্পিচ” বা ঘৃণামূলক বক্তব্যের সংজ্ঞা অস্পষ্ট হওয়ায় এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। এমন বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হলে প্রশাসনের পক্ষে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতামত দমন করা সহজ হয়ে যাবে— যা গণতন্ত্রের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এখানে যেসব মন্তব্যকে “হেইট স্পিচ” বলা হচ্ছে, তা কোনো বর্ণবাদী বা সহিংস বক্তব্য নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে কারও মৃত্যুকে ঘিরে মতামত প্রকাশ। তবে বন্ডি এখনো স্পষ্ট করে বলেননি, কোন মন্তব্যকে তিনি অপরাধ হিসেবে দেখছেন।

তথ্যসূত্র:CNN