প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দলগুলোর শক্তির হিসাব। শেষ ষোলোর প্রথম দুটি ম্যাচ শেষে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে মরক্কো ও ফ্রান্স। এরই মধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল, যা বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং সামগ্রিক শক্তিমত্তা বিবেচনায় প্রকাশ করা হয়েছে নতুন পাওয়ার র্যাঙ্কিং। সেখানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন লড়াইয়ের কারণে এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে আর্জেন্টিনা।
পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা ফ্রান্স পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। কোচ দিদিয়ের দেশমের দল এখনও অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে ১০ গোল করার পর শেষ বত্রিশে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও দারুণ ছন্দে আছেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেছেন এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯।
দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে স্পেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও লামিন ইয়ামালের প্রত্যাবর্তনের পর পাল্টে গেছে দলের চেহারা। সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পর শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে স্পেন জানিয়ে দিয়েছে, তারা এবার শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার।
এক ধাপ পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি এখনও এগিয়ে চললেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ নিষ্পত্তি করতে না পেরে অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। শেষ পর্যন্ত ১১১ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সই তাদের র্যাঙ্কিংয়ে অবনমনের প্রধান কারণ।
চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বে খুব একটা ছন্দে না থাকলেও শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে রবের্তো মার্তিনেজের দল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পেনাল্টি গোল এবং শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ায় জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
পঞ্চম স্থানে অপরিবর্তিত রয়েছে ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির দল জাপানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ইনজুরি সময়ের ৯৫ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির নাটকীয় গোলে জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা। তবে জয় পেলেও প্রত্যাশিত আধিপত্য দেখাতে না পারায় তাদের অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি।
এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে ইংল্যান্ড। থমাস টুখেলের দল কঙ্গোর বিপক্ষে দীর্ঘ সময় পিছিয়ে ছিল। শেষ দিকে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত হলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না। সামনে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ইংল্যান্ড কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সর্বশেষ পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে মরক্কো। এরপর যথাক্রমে রয়েছে মেক্সিকো (৮), নরওয়ে (৯), যুক্তরাষ্ট্র (১০), বেলজিয়াম (১১), কলম্বিয়া (১২), সুইজারল্যান্ড (১৩) এবং মিসর (১৪)।