প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৫৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
১২ লাখের বেশি মানুষের বোঝা বাংলাদেশের ওপর; কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, অনিশ্চিত প্রত্যাবাসন
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের যে বিশাল ঢল নেমেছিল, তার নয় বছর পূর্ণ হলো। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন প্রায় ১২ লাখ, অথচ তাদের প্রত্যাবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় শরণার্থী শিবির পরিচালনার চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর কয়েক মাসের মধ্যে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি গড়ে ওঠে।
প্রত্যাবাসন এখনও অনিশ্চিত
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করে আসছে। কিন্তু রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনও বলেছে, রাখাইনে এখনও এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি যেখানে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। সংঘাতের কারণে নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মিয়ানমার সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করলেও প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে, কতজন ফিরতে পারবেন—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর এখনও নেই।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমছে
সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক তহবিলের ওপরও চাপ বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতি বছর বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান বোঝা বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিবিরের জনসংখ্যা বাড়ছে।
বাংলাদেশের ওপর বহুমুখী চাপ
রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়; এর সঙ্গে পরিবেশ, নিরাপত্তা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতিও জড়িত। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়ে আসছে।
নয় বছর পরও সংকটের সমাধান না হওয়ায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আর কত বছর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থাকতে হবে?