এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৪৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার আরও ৫০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ

রাজধানী ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, যানবাহনের চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

রাজধানীর যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহনের চাপ বাড়লে একটি সড়কের জট দ্রুত আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি

এআই ক্যামেরার অন্যতম লক্ষ্য হলো সড়কে যানবাহনের চলাচল সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ করা। প্রচলিত ব্যবস্থায় ট্রাফিক পুলিশকে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ব্যবহার করলে একসঙ্গে একাধিক লেন ও যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই যানজটের স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য কীভাবে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক সংকেতের সময় নির্ধারণ, যানবাহনের চাপ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করার মতো কাজে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আইন ভঙ্গকারীদের ওপর বাড়তে পারে নজর

ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নির্ধারিত লেন না মানা, সংকেত অমান্য করা, ভুল পথে গাড়ি চালানো কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে গাড়ি থামানোর মতো ঘটনা যানজট আরও বাড়িয়ে দেয়।

এআইভিত্তিক ক্যামেরা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে এসব অনিয়ম শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য কোথায় সংরক্ষণ হবে, কে তা ব্যবহার করতে পারবে এবং কতদিন রাখা হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

শুধু ক্যামেরা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

ঢাকার যানজটের পেছনে শুধু ট্রাফিক আইন না মানা দায়ী নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, রাস্তার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, পার্কিং সমস্যা, ফুটপাত দখল, গণপরিবহনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িও যানজটের অন্যতম কারণ।

তাই ৫০টি মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানোর পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পার্কিং ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি।

রাজধানীর যানজট কমাতে প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। তবে সেই প্রযুক্তিকে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা না গেলে শুধু ক্যামেরা বাড়িয়ে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।