প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৪৭ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

এলএনজি কিনতে বাংলাদেশকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টি দেবে বিশ্বব্যাংক

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত অর্থায়ন; নভেম্বরের মধ্যে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ গ্যারান্টি দিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়াতে এই গ্যারান্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাংকের এই অতিরিক্ত গ্যারান্টি নভেম্বরের মধ্যে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে এলএনজির দাম ও সরবরাহ—দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের গ্যারান্টি মূলত এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে অর্থায়ন সুবিধা পেতে সহায়তা করবে। এর আগে মে মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানির জন্য ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন অনুমোদন করেছিল।

এলএনজির দামও বড় চাপ

তবে শুধু অর্থায়ন নিশ্চিত করলেই জ্বালানি সংকটের পুরো সমাধান হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামও এখন বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ দুটি এলএনজি কার্গো কিনতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধের আগে স্বাভাবিক দামের তুলনায় এই মূল্য প্রায় দ্বিগুণ।

উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন এবং সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি মিলবে?

বাংলাদেশের বিদ্যুৎউৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসভিত্তিক। ফলে পর্যাপ্ত এলএনজি পাওয়া গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে লোডশেডিং কমানো এবং শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।