প্রকাশিত: ২৫ আগষ্ট ২০২৬ , ০৬:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

চীনের J-10CE যুদ্ধবিমান কিনতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি J-10CE বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য একটি চুক্তির খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিকায়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (MRCA), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ড্রোন বা UAV ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতি

সরকারের একটি কমিটি ইতোমধ্যে J-10CE যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কতটি যুদ্ধবিমান কেনা হবে, মোট চুক্তির মূল্য কত এবং কবে নাগাদ বিমানগুলো বাংলাদেশে আসবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২৪টি J-10CE কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে, কিন্তু সংখ্যাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি।

অর্থাৎ, বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে তা হলো—সম্ভাব্য ক্রয় নিয়ে আলোচনা ও চুক্তির প্রস্তুতি। এটিকে এখনই চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিমানবাহিনী আধুনিকায়নে বড় পদক্ষেপ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছুদিন ধরেই আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের আলোচনা চলছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় শুধু যুদ্ধবিমান নয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে এসব সংগ্রহের কিছু কার্যক্রম চলতি বছরেই বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে বিষয়গুলো নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার অপারেশন পরিচালনার সামর্থ্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্রব্যবস্থা, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

কেন আলোচনায় J-10CE?

চীনের Chengdu J-10 সিরিজের উন্নত সংস্করণ J-10CE একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি ভূমিতে বিভিন্ন ধরনের সামরিক মিশন পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

J-10CE নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ নতুন করে বাড়ে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময়। পাকিস্তান দাবি করেছিল, ওই সময় J-10 যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এসব দাবির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং সব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, বিশ্বের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতাও এ ধরনের বিমান কেনার আলোচনায় বিবেচনায় এসেছে।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক

চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী। গত দুই দশকে বাংলাদেশ চীন থেকে নৌযান, ট্যাংক, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। ফলে J-10CE কেনার আলোচনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই যুদ্ধবিমান ক্রয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়ের সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সামনে কী?

এখন মূল নজর থাকবে বাংলাদেশ ও চীনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিকে। চুক্তির শর্ত, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্যাকেজ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং অর্থ পরিশোধের কাঠামো—এসব বিষয় আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে।

সবকিছু চূড়ান্ত হলে J-10CE বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় সামরিক আধুনিকায়ন প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো বিমান কেনার চূড়ান্ত চুক্তি করেনি; বরং আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।