ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৩ আগষ্ট ২০২৬ , ০৩:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আগস্টের ২২ দিনেই ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স

এক বছরে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ; অর্থবছরের শুরু থেকে এসেছে ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলার

প্রবাসী আয়ে আবারও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২২ দিনে বাংলাদেশে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা প্রায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

বর্তমান বিনিময় হার ১ ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে আগস্টের প্রথম ২২ দিনে আসা রেমিট্যান্সের স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য প্রায় ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ২২ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করেছে।

তিন দিনেই এলো ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ হিসাবে, ২০ থেকে ২২ আগস্ট—এই তিন দিনে দেশে এসেছে আরও ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এতে মাসের শুরু থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী থাকার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারগুলোর ভোগ ও সঞ্চয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের একটি বড় অংশ দেশে থাকা পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়িঘর নির্মাণ এবং ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়।

অর্থবছরের শুরুতেই ৫০০ কোটি ডলার ছাড়াল

শুধু আগস্ট নয়, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করায় আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেন ও ডলারের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা পায়। একই সঙ্গে রিজার্ভের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে

ব্যাংকারদের মতে, বৈধ বা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়া, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হওয়া প্রবাহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে প্রবাসী আয় আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অর্থনীতিবিদদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি রেমিট্যান্স কীভাবে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহার করা যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি বলা হয়েছে, রেমিট্যান্সের একটি অংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে বিনিয়োগ করা গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, আগস্টের প্রথম ২২ দিনের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা শুধু পরিবার নয়, দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠছে।