প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬ , ১১:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস) নিয়ে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে থাকার আইনি পথ খুঁজে নিতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিপিএস কোনো স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়। তাই যাদের এই মর্যাদা রয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তা সম্ভব না হলে সরকার তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করবে।
মুলিন জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যেতে আগ্রহীদের বিমান ভাড়ার পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক বিভক্ত রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে লাখ লাখ হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের অনুমতি দেয়। এর পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ভয়াবহ সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িকভাবে টিপিএস সুবিধা দেওয়া হয়। অতীতে এই সুরক্ষার মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হলেও এবার তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কারণ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও হাইতি ও সিরিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে দেশ দুটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির নাগরিকদের জন্য প্রথমবারের মতো টিপিএস সুবিধা চালু করে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গৃহপালিত পশু খাওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা মত দেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ জাতিগত পক্ষপাতদুষ্ট ছিল বলে মামলাকারীদের যে অভিযোগ, তা আদালতে প্রমাণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।