প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ , ০৮:১৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
শেষ মুহূর্তের এক নাটকীয় গোলে ইতিহাস গড়েছে বিশ্বকাপের সহআয়োজক কানাডা। ইনজুরি টাইমে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তের এই হারে প্রথমবার নকআউটে উঠে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্নভঙ্গ হলো।
লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচজুড়ে দুই দলই লড়াই করেছে সমানতালে। তবে আক্রমণে তুলনামূলক বেশি কার্যকর ছিল কানাডা। প্রথমার্ধে ডেরেক কর্নেলিয়াস, মইসে বম্বিতো ও তাজন বুকানান কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বিরতির আগে রিচি লারিয়াকে ফাউলের ঘটনায় কানাডা পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে কানাডা। তাইয়োন ওলুওয়াসেয়ি দারুণ একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও উইলিয়ামস আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান। ফিরতি বলে জনাথন ডেভিডের শটও শেষ মুহূর্তে রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার এমবোকাজি।
ম্যাচের মাঝপথে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন কানাডার তারকা আলফোনসো ডেভিস। তার উপস্থিতিতে আক্রমণের গতি বাড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় দৃঢ়তা ধরে রাখে। ফলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু যোগ করা সময়ের শুরুতেই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার এক ডিফেন্ডার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল বক্সের বাইরে পাঠালে অপেক্ষায় ছিলেন স্টিফেন ইউস্তাকিও। বুকে বল নিয়ন্ত্রণে এনে নিচু হাফ-ভলিতে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। উইলিয়ামস ঝাঁপিয়েও বল স্পর্শ করতে পারেননি।
এই একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে কানাডা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাসও রচনা করে জেসি মার্শের দল।
আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে শেষ ষোলোয় নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে কানাডা। সেই ম্যাচে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকবে উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিদের।